আজকের এদিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্যমতে আপনি সিংহ রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ বুদ্ধির দেবতা বুধ ন্যায়ের দেবতা শনি মহারাজ ও গ্রহমাতা চন্দ্রের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে কুম্ভ রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। লম্বা দূরত্বের সফরে নিজে ড্রাইভ করা থেকে বিরত থাকুন। শ্রমিক কর্মচারীদের মনে মালিকপ্রীতি দেখা দেবে। মন ধর্মের প্রতি ঝুঁকবে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল]
আয় বুঝে ব্যয় করুন নচেৎ সঞ্চয়ে হাত পড়বে। দূর থেকে আসা কোন অপ্রিয় সংবাদে মন বিষণœ হয়ে পড়বে। মামলা মোকদ্দমা ও কোর্ট কেসে শ্রম অর্থ দুটোই ব্যয় হবে কিন্তু ফল হবে না। অবশ্য সংকটকালে বন্ধুবান্ধবরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে]
জীবনসাথী শ্বশুরালয় ও মাতুলালয় থেকে ভরপুর সাহায্য সহযোগিতা পাবেন। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহের প্রস্তুতি নিতে হবে। সন্তানদের কেরিয়ার অধ্যয়ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন]
সিজনাল রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসাবাণিজ্যে মজুদ মালের দাম বৃদ্ধি পেলেও বিক্রয় করে ঘরে তোলা কঠিন হবে। অবশ্য শ্রমিক কর্মচারীদের মালিকপ্রীতি দেখা দেবে। রাগ জেদ অহংকার আবেগ বর্জন করুন।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই]
শিক্ষার্থীদের মনে অলসতা জেঁকে বসবে। পিতামাতার সঙ্গে মতানৈক্য তৈরি হবে। কর্মের সুনাম যশ পদোন্নতির পথ সুগম করবে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের বিদেশগমনের পথ খুলবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষরা পিছু হটতে বাধ্য হবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট]
কর্ম প্রত্যাশীদের কর্ম প্রাপ্তি হারানো কর্ম পুনরুদ্ধার হবে। নিত্যনতুন ব্যবসার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহের কথাবার্তা পাকাপাকি হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে নিত্যনতুন সুযোগ এসে হাজির হবে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর]
টাকাপয়সা হাতে আসতে আসতে মাঝপথে আটকে যাবে। দূর থেকে আসা কোন অপ্রিয় সংবাদে মন বিষণœ হয়ে পড়বে। বাড়ির ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বৈদ্যুতিক মিটার ও যানবাহন মেরামতে প্রচুর ব্যয় হবে। প্রেমী যুগল সাবধান।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর]
পাওনা টাকা আদায় আটকে থাকা বিল পাস হবে। বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়ি ভূমি সম্পত্তি ও যানবাহন লাভের স্বপ্ন পূরণ হবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর]
বিবাহযোগ্যদের বিবাহের কথাবার্তা পাকাপাকি হবে। কর্মের সুনাম যশ পদোন্নতির পথ সুগম করবে। দাম্পত্য সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে ছাড় দিতে হবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে নতুন আসতে পারে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর]
দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভিড়ভাড় তীব্রগতির বাহন বর্জন করুন। শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি তীক্ষè নজর রাখুন। গোপন প্রেম ও অনুচিত কাজবাজ ফাঁস করে দিতে পারে। সন্তানরা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে। ভাঙা বন্ধুত্ব জোড়া লাগবে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি]
শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে। যেমন আয় তেমন ব্যয় হওয়ায় সঞ্চয়ের খাতে থাকবে শূন্য। অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া খাল কেটে কুমির আনার সমান হবে। সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয় পরিজন বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি]
দুর্যোগের মেঘ কাটতে শুরু করবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। ভাঙা প্রেম ও বন্ধুত্ব জোড়া লাগবে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ বিবাদের মীমাংসা হবে।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ]
দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হবে। মামলা মোকদ্দমা ও কোর্ট কেসের রায় পক্ষে আসবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। মন সুর সংগীত ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তঃনগর, কমিউটার ও লোকালসহ আরও ১৯ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ৩১ মে প্রথম দফায় ৮ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়। পরবর্তীতে ৩ জুন দ্বিতীয় দফায় আরও ১১ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন বাড়ানো হয়। তবে কিছুদিন পর যাত্রী সংকটে দুই জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৬ আগস্ট নতুন করে আরও ১২ জোড়া আন্তঃনগর ও এক জোড়া কমিউটার ট্রেনসহ মোট ১৩ জোড়া ট্রেন নতুন করে চলাচল শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৭ আগস্ট থেকে আরও ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপরই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তঃনগর, কমিউটার ও লোকালসহ আরও ১৯ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। সিলেবাসের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমানো হচ্ছে। অক্টোবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে অসমাপ্ত সিলেবাসের ৭০ শতাংশ, নভেম্বরে খুললে ৬০ শতাংশ পড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হলে অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হবে। উভয় পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো পাঠ্যবইয়ের ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পাঠ কমেছে। করোনা পরিস্থিতি শুরুর আগে পাঠ্যক্রমের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পড়ানো হয়েছে। আগের ও পরের পঠিত মোট পাঠ্যক্রমের ওপর ডিসেম্বরের শেষের দিকে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান সাধারণ ছুটি ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাসে ছুটি আরও বাড়ানো হতে পারে। দুই মন্ত্রণালয়ের (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়) নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে। দু-একদিনের মধ্যে এ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হবে না। তবে দুই মন্ত্রণালয় আলোচনা শেষে দু-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জানা গেছে, কোভিড-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমের নীতি-কৌশলের খসড়া চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিনটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এর একটি ছিল সেপ্টেম্বরে স্কুল খুলে দিলে পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসের কতটুকু পড়ানো হবে। যেহেতু সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান না খোলার সম্ভাবনা বেশি, এ কারণে এটি আজকে আলোচনায় আসছে না। অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস ধরে তৈরিকৃত পরিকল্পনা-২ ও পরিকল্পনা-৩ আজকের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে নিম্ন মাধ্যমিক বিষয়ে কৌশল তৈরির কাজ চলছে এনসিটিবিতে। বর্তমানে এনসিটিবিতে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য পৃথক তিনটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। নবম শ্রেণির জন্য কোনো পাঠ সংকোচনের নীতি গ্রহণ করা হবে না। দুই বছরের জন্য এই স্তরে পাঠ্যবই তৈরি করা হবে। নবম শ্রেণিতে যা পড়ানো বাকি থাকবে সেটা দশম শ্রেণিতে পড়ানো হবে। এই স্তরেও ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের করোনা-পরবর্তী শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর সম্ভাব্য কর্মদিবস ধরে তৈরি করা হয়েছে এ প্রস্তাব। সে অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৩০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলে পাঠ্যবইয়ের কতটুকু অংশ পড়ানো হবে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ৫০ এবং ৩০ কর্মদিবস সময় পেলে কতটুকু পড়ানো যাবে, তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই তিনটির মধ্যে দুটি বিকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে।
Post Written by : Rubel Islam
Original Post URL : https://ift.tt/2Qp411w
Post Come trough : Nachole News | নাচোল নিউজ
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। কিন্তু মহামারির মধ্যেই কওমি মাদ্রাসায় পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার।
এটাই হবে মহামারি শুরুর পর প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষা। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কি সিদ্ধান্ত হয়েছে?
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক সংবাদ ব্রিফিং-এ বিষয়টি জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো আপিল করেছিল যে তারা উপরের লেভেলের পরীক্ষাগুলো নিতে চায়, দাওরায়ে হাদিস অর্থাৎ গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স পর্যায়ের। সরকার তাতে সম্মত হয়েছে। তবে জেনারেল কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলবে না।
বাংলাদেশে ছয়টি মাদ্রাসা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলয়া বোর্ডের সদস্যদের একজন মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ জানিয়েছেন, সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়ার শর্তে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে আমরা এখনো কোন প্রজ্ঞাপন পাইনি। আশা করি পেয়ে যাব।
ফয়জুল্লাহ জানিয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের মতো। তিনি বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে এক চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম।
ঈদুল ফিতরের পর কওমি মাদ্রাসাগুলোর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই মহামারির কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়।
মহামারির কারণে যেসব পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মহামারির কারণে এখনো আটকে রয়েছে এই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এপ্রিল মাসে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। একই মাসে হওয়ার কথা ছিল অষ্টম শ্রেণি শেষে জেএসসি বা জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা। সেটিও অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষার ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
গত সপ্তাহেই পিএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষা না নেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মতামত পাঠানো হয়েছে৷ তবে করোনাভাইরাস মহামারির আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা কিন্তু এর ফল ঘোষণাতে অনেক সময় নেয়া হয়।
বাংলাদেশে ১৭ মার্চ থেকে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে তবে সেপ্টেম্বরে অথবা কবে নাগাদ স্কুল খুলবে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
কওমি মাদ্রাসাকে যে কারণে পরীক্ষা অনুমতি
বাংলাদেশে এর আগে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালুর অনুমতি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। অন্যান্য সকল পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও কওমি মাদ্রাসাকে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি কী কারণে দেয়া হচ্ছে , সেটি ঠিক পরিষ্কার নয়।
বিষয়টি কথা বলতে আমি যোগাযোগ করেছিলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে। তবে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষার ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। খবর: বিবিসি বাংলা।
চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
চলে গেলেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) বীর উত্তম। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বয়েন্টনবীচ বেথেষ্ডা সাউথ হাসপাতালের হসপিস কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
কনিষ্ঠ কন্যা কবিতা দাসগুপ্ত হ্যাপির ফ্লোরিডার বাসায় ছিলেন সি আর দত্ত। গত বৃহস্পতিবার ওই বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায় বলে তার জামাতা শংকর গুপ্ত জানান। সাথে সাথে তাকে নিকটস্থ বেথেস্ডা ওয়েস্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসকরা তার গোড়ালিতে মাইক্রো সার্জারি করেন। সে সময় তাকে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞান (এনেসথেসিয়া) করতে হয়।
সি আর দত্ত এ্যাজমায় আক্রান্ত থাকায় ওই সার্জারির পর শ্বাসকষ্ট মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। একইসাথে তার কিডনিও অচল হয়ে পড়ে।
কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও কথা বলছিলেন অসংলগ্নভাবে।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাথে যুক্ত। এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সি আর দত্ত।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ২ বিদেশি জাহাজের সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম প্র্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে মাতারবাড়িতে নোঙ্গরে থাকা দুটি বিদেশি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে কোস্ট গার্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুই জাহাজের সংঘর্ষ এবং নাবিকদের উদ্ধারের কথা জানায়।
পণ্যবাহী বিদেশি জাহাজ ‘এমভি আর্চাগিলস গ্রাবিয়েল’ এবং ‘এমভি ডেনমা প্যানথার’ নামে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম হায়াত ইবনে সিদ্দিক জানান, সোমবার ভোর ৬টার দিকে প্রবল স্রোতের কারণে মাতারবাড়ি বহির্নোঙ্গরে নোঙ্গর করে থাকা মালটা পতাকাবাহী অ্যামেনিয়াম ফসফেট বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি আর্চাগিলস গ্রাবিয়েল জাহাজের দুটি নোঙ্গরই ছিঁড়ে যায়। এই সময় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ‘ডেনসার প্যানথার’ জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ শ্যামল বাংলা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাহাজ দুটির অধিনায়ক এবং ক্রুদের সার্বিক খোঁজ-খবর সংগ্রহ করে। দুর্ঘটনা কবলিত দুটি জাহাজেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি তারা।
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে লোকালয় প্রায়ই প্লাবিত হচ্ছে। গত ৭-৮ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে ডা. আবদুল হক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনসেট অফিস ও শ্রেণিকক্ষ। এতে আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
বিদ্যালয়টি সদর উপজেলার চররমনি মোহন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ওই এলাকাতে এটিই একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মেঘনা নদীর সংযোগ খালের পাশেই হওয়ায় জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়টি প্রায় ৪ ফুট ডুবে থাকে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৯ জন শিক্ষক ও ২৬০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর ডা. আব্দুল হক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার মেঘনা নদী এলাকায় এটি একমাত্র বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে বিদ্যালয়ের অর্ধেক পানির নিচে ডুবে থাকে। এতে আসাবপত্রগুলো ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
তিনটি আন্তর্জাতিক রুট ছাড়া অন্যগুলোতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিতের সময় বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে কুয়েত, কলকাতা ও দিল্লি ছাড়া অন্য সকল আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি উন্নতি সাপেক্ষে ফ্লাইট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত ২৪ মার্চ সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরবর্তীতে ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় সংস্থাটি। কিন্তু অনুমতি দিলেও এখন লন্ডন ও দুবাই ছাড়া সকল রুটে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিমান।
বিভিন্ন রুটে কয়েক দফা ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। মঙ্গলবার আরেক দফা সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত করলো রাষ্ট্রয়াত্ত এই উড়োজাহাজ সংস্থাটি।
রোমের স্প্যালানজানি হাসপাতালে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর দেহে প্রথম এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতালিতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় একটি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল অর্থাৎ মানবদেহে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রোমের স্প্যালানজানি হাসপাতালে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর দেহে প্রথম এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির।
ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল সফলভাবে শেষ হলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে ইতালি।
ইতালির তৈরি এই ভ্যাকসিন বিশ্বের যে ১৭০টি টিকার উন্নয়নে কাজ চলছে তার মধ্যে একটি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে মুক্তি দেওয়ার মিছিলে যে কয়টি টিকা বেশ আশা জাগাচ্ছে সেই তালিকায় এই ভ্যাকসিনকেও রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্প্যালানজানি হাসপাতালের পরিচালক ফ্রান্সেসকো ভাহিয়া বলেছেন, আমি খুবই সন্তুষ্ট এটি নিয়ে এবং যথারীতি গর্বিতও। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চললে চলতি বছরের মধ্যেই আমরা ট্রায়াল শেষ করবো। তারপর আগামী বছরের শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতি নিবো। ইতালির বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে।
৫ হাজারের বেশি মানুষ ইতালির তৈরি ভ্যাকসিনের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তার মধ্য থেকে ৯০ জনকে বেছে নেওয়া হয় যারা শারীরিকভাবে সুস্থ্য ও ফিট। পর্যায়ক্রমে তাদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে এই ভ্যাকসিন। এরপর ১২ সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। দেখা হবে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা। অথবা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে কিনা।
এই ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য ইতালির গবেষণা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে লাৎসিওর একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তারা এ পর্যন্ত ৫ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছে। আর টিকাটি তৈরি করেছে ইতালির বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ‘রাইতেরা’।
সম্প্রতি ইতালিতে দ্রুত বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। গেল ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৯৫০ জন। তাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৯৮ জন। মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪৪১ জন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে আমি তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে নেমেছি। যেসকল স্থায়ী সমস্যাগুলো আছে তার একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা অনুসন্ধান আমি করে যাচ্ছি। পরবর্তীতে যারা মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করবেন তারা যাতে এই নির্দেশনানুযায়ী স্থায়ী সমাধান দিতে পারেন সেজন্য নগরবাসীর পরামর্শ এবং তাদের আবেদন নিবেদন আমি জ্ঞাত হতে চাই। এজন্য যেকেউ যেকোন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এজন্য আমি মুখিয়ে আছি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নগরীর বহদ্দারহাটে আরাকান সড়কে তাঁর ঘোষিত নগরসেবায় ক্যারাভান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুকালে এ কথা বলেন।
চসিক প্রশাসক সুজন বলেন, জনদুর্ভোগের যে কারণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা চিহ্নিত করে সুরাহা করাটা আমার কর্তব্য। সুরাহা করতে গিয়ে যে প্রতিবন্ধকতাগুলোর সম্মুখীন হবো তা অবশ্যই অতিক্রম করে যাবো। আমার এই উদ্দেশ্য পূরণে চসিকের সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। এই নির্দেশনানুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালনে কেউ ব্যর্থ হলে তাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি নগরসেবায় ক্যারাভান কার্যবিধি সম্পর্কে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক ও জনপথ, ড্রেইন, ফুটপাতে যে সমস্যা বিরাজমান তা মিটিং কিংবা কমিটি গঠন করে সময়ক্ষেপন না করে সরেজমিনে মাঠে থেকে তা স্পটে সমাধান করা হবে। ক্যারাভান কার্যক্রমের অধিনে চলতি পথে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক,নষ্ট সড়কবাতি,পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমসহ যে সকল সমস্যার কারণে নাগরিক দূর্ভোগ সৃষ্টি হয় তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করছি।
এসময় প্রশাসক পথচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক তুলে দিয়ে বলেন, আজ এর প্রথম দিন। পরবর্তীতে সপ্তাহে অন্তত একদিন এই প্রোগ্রাম নিয়ে অন্যান্য নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যাব। প্রধান সড়কে সম্পন্ন হলে নগরের অলিগলিতে যাব। মূলত এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নাগরিক সমস্যার সমাধান ও জনসম্পৃক্ততার চেষ্টা করব। শুনবো তাদের অভিযোগ ও পরামর্শ।
এসময় সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন প্রশাসক। তিনি তাদের অভাব-অভিযোগগুলো শুনে তা সমাধানের দিক নির্দেশনা দেন। যা পেয়ে এলাকাবাসী সন্তুষ্টি চিত্তে অভিভাদন জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন সাইফু, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ সফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী, রাজনীতিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ নিজু, মোরশেদ আলম ও নোমান চৌধুরী।
আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্যমতে আপনি কন্যা রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ রাশি অধিপতি বুধ, বিঘ্ন সৃষ্টিকারী গ্রহ কেতু ও গ্রহপিতা রবির প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে ধনু রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহবিবাদের মীমাংসা হবে। আশ্রিত ও প্রতিপালিত ব্যক্তিদের প্রতি তীক্ষè নজর রাখা শ্রেয় হবে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল]
শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে। লটারি জুয়া রেস শেয়ার হাউজিং এড়িয়ে চলুন। সংকটকালে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়পরিজন দূরে থেকে মজা দেখবে। পিতামাতার স্বাস্থ্য ভালোর দিকে যাবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে]
বিবাহযোগ্যদের বিবাহের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে। জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও মাতুলালয় থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। দাম্পত্য সুখ-শান্তি বজায় রাখতে জীবনসাথীর মতামতকে গুরুত্ব দিন।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন]
শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি তীক্ষè নজর রাখা সমীচীন হবে। গুপ্ত ও প্রকাশ্য শত্রুর চাপ বৃদ্ধি পাবে। মামলা-মোকদ্দমার রায় পক্ষে আসবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের মনে মালিকপ্রীতি দেখা দেবে। দূর থেকে আসা কোনো সংবাদে পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই]
বিদ্যার্থীদের জন্য দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা ও আশীর্বাদপ্রাপ্ত হবেন। কর্মের সুনাম যশ পদোন্নতির পথ সুগম করবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র আসতে পারে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট]
দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহবিবাদের মীমাংসা হবে। প্রেম রোমান্স বিনোদন ভ্রমণ বিবাহ বন্ধুত্ব শুভ হবে। সহকর্মী ও অংশীদারদের সহযোগিতায় আটকে থাকা কাজ সচল হবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষের সব পরিকল্পনা প- হয়ে পড়বে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর]
কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়তি দায়িত্বভার বর্তাতে পারে। ভাইবোনদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা কঠিন হবে। অত্যাবশ্যকীয় বিদেশগমনের পথে কোনো না কোনো বাধা এসে হাজির হবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহের কথাবার্তা পাকাপাকি হবে।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর]
হাত বাড়ালেই সফলতা ধরা দেওয়ায় দিনটি বেশ মৌজমস্তিতে কাটবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম অধিক বৃদ্ধি পাবে। শ্রম মেধা প্রযুক্তি ও কৌশলের পূর্ণ ফল প্রাপ্ত হবেন। দীর্ঘদিনের ভাঙা প্রেম ও বন্ধুত্ব জোড়া লাগবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর]
দুর্যোগের মেঘ কাটতে আরম্ভ করবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও খেলনাসামগ্রীর পসরা সাজবে। মামলা-মোকদ্দমার রায় পক্ষে আসবে। আজকের রোপণ করা বৃক্ষ ভবিষ্যতে ফুল, ফল ও সংকটকালে ছায়া দিয়ে বাঁচাবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর]
টাকাপয়সা হাতে আসতে আসতে মাঝপথে আটকে যাবে। সময়মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হবে। পরিবারের কোনো বয়স্ক লোকের শরীর-স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়তে পারে। না বুঝে চুক্তি সম্পাদন ঘাতক বলে প্রমাণিত হবে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি]
ডাকযোগে প্রাপ্ত সংবাদ বেকারদের মুখে হাসি ফোটাবে। দাম্পত্য জীবন কটুতায ভরে থাকলেও বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নেই। গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সন্তানদের ক্যারিয়ার, অধ্যয়ন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত দুশ্চিন্তার অবসান হবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি]
বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে নিত্যনতুন সুযোগ এসে হাজির হবে। বিদেশগমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দুটোই সমানতালে শুভফল প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের মনে অলসতা দানা বাঁধতে পারে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ]
যে কাজে হাত দেবেন তাতেই কমবেশি সফলতাপ্রাপ্ত হবেন। বাণিজ্যিক সফর লাভদায়ক এমন কি ভ্রমণকালীন পরিচয় বন্ধুত্বে রূপ নেবে। শিক্ষার্থীদের হাতে নিত্যনতুন সুযোগ আসবে। প্রেমিকযুগলের প্রেম বিবাহের মাধ্যমে সমাজে স্বীকৃতি পাবে।
চীনের সঙ্গে আলোচনায় কাজ না হলে অস্ত্রের ভাষাতেই কথা হবে: বিপিন রাওয়াত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সঙ্কট কাটাতে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং চীন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা পুরোপুরি ফলপ্রসূ হয়নি। দুই পক্ষই সামান্যতম স্বার্থেও ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না বলেই এই দীর্ঘসূত্রতা।
তবে ভারতের তিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আলোচনায় সমাধান না এলে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রের ভাষাতেই কথা হবে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
রাওয়াত বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। চীনের কাছ থেকেও সে একই আগ্রহ দেখতে পাব বলে আশা করছি। কিন্তু সবরকম চেষ্টার পরও যদিও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর স্থিতাবস্থা ফিরে না আসে, তার জন্য বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়৷ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় আগের সে স্থিতাবস্থা ফিরেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সঙ্কট কাটাতে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং চীন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা পুরোপুরি ফলপ্রসূ হয়নি। বৃহস্পতিবারও কূটনৈতিক স্তরে আরও এক দফা আলোচনা হয়েছে। তার পরে ভারতের বিদেশমন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিগুলো মেনেই দ্রুত সমস্ত বিবাদ দূর করতে চায় ভারত।
নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর খাটের নিচ থেকে ভাই-বোনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর নিজ ঘরের খাটের নিচ থেকে শিফা আক্তার (১৪) ও কামরুল হাসান (১০) নামে দুই শিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত আটটার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেনের সন্তান। শিফা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও কামরুল হাসান সলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেনের ছেলে কামরুল হাসান বিকেল চারটা থেকে নিখোঁজ হয়। তাকে খুঁজতে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিংও করতে থাকেন। সন্ধ্যার পর কামরুলের বোন শিফা আক্তারও নিখোঁজ হয়। পরে রাত আটটার দিকে মা হাসিনা বেগম নিজের বাড়ির পৃথক দু’টি কক্ষের খাটের নিচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
হাসিনা বেগম বলেন, বিকেল থেকে আমার ছেলে কামরুল হাসানকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এজন্য এলাকায় মাইকিংও করাই আমরা। সন্ধ্যার পর আমার মেয়েও নিখোঁজ হয়। রাত আটটার দিকে দুই কক্ষের খাটের নিচে ছেলে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে পাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে আনি। আমাদের কোন শত্রু নেই। কে আমার ছেলে-মেয়েকে মারলো বুঝতে পারছি না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবীনগর সার্কেল মকবুল হোসেন জানান, সলিমাবাদ গ্রামে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের নিচ থেকে ভাই-বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। কিভাবে তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো পরিবারও বলতে পারছে না।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুনরায় নির্বাচিত করতে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দিয়েছে রিপাবলিকান দল। রিপাবলিকান দলের চার দিনের জাতীয় কনভেনশনের প্রথম দিনেই ডেলিগেটগণ ট্রাম্পকে মনোনীত করতে ভোট দেন।
রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হতে ট্রাম্পের দরকার ছিল ১ হাজার ২৭৬ ডেলিগেট বা প্রতিনিধির সমর্থন। কিন্তু তিনি ২ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। এর পর পরই বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক।’
চার দিনের রিপাবলিকান দলের কনভেনশন শুরু হয় স্থানীয় সময় ২৪ আগস্ট সোমবার সকালে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হবে এই কনভেনশন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ডেমোক্রেট দলের কনভেনশনে শেষে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন গ্রহণ করেন জো বাইডেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতিক হিসেবে ছিলেন তুখোড়। আইনজীবী হিসেবে তাঁর তুলনা ছিলেন তিনি নিজেই। অখ- ভারতের সেরা আইনজীবী হিসেবে ভাবা হতো জিন্নাহকে। প্রেমিক হিসেবেও তিনি যে দুর্দান্ত তা সে সময়কার বোম্বাইয়ের সেরা সুন্দরী লেডি রতন বাঈ তথা লেডি রতির সঙ্গে জিন্নাহর প্রেম ও বিয়ে সে সাক্ষ্যই বহন করে।
ভারতের সেরা ধনী স্যার দিনশাহর অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন জিন্নাহ। বন্ধুর কিশোরী কন্যার সঙ্গে দুই বছর লুকোচুরির প্রেম শেষে প্রেয়সীর ১৮ বছর পুরতেই তাঁকে বধূ হিসেবে ঘরে তোলেন। জিন্নাহর কাছ থেকে নিজের কিশোরী কন্যাকে দূরে রাখতে স্যার দিনশাহর চেষ্টার ঘাটতি ছিল না। পারসি সম্প্রদায়ের কাছেও এ সম্প্রদায়ের মাথার মণি পেটিট পরিবারের সুন্দরী ও বিদুষী কন্যা তাঁর চেয়ে ২৪ বছরের বেশি বয়স্ক একজন মুসলমান রাজনীতিককে বিয়ে করবেন- এ ছিল মর্মবেদনার বিষয়। লেডি রতির প্রপিতামহ দিনশাহ মানেকজি পেটিট ছিলেন ভারতবর্ষের আধুনিক শিল্পের জনক। এ উপমহাদেশের প্রথম সুতাকলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তাঁর আরেক প্রপিতামহ টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রতনজি দাদাভাই টাটা।
লেডি রতির দাদির মা সুজানে ব্রেরিয়ার প্রাচ্যের নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম গাড়ি ড্রাইভ করার কৃতিত্বের অধিকারী। যে যুগে ইউরোপেও এমন নারীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। লেডি রতি ১৮ বছরে পা দেন ১৯১৮ সালের ১৯ এপ্রিল। সেদিনই একটি ছাতা ও এক জোড়া পোশাক নিয়ে তিনি বাবার বাড়ি ছাড়েন। ওঠেন প্রেমিক জিন্নাহর কাছে। পরদিন সকালে নাশতার টেবিলে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাতে গিয়ে হোঁচট খান স্যার দিনশাহ পেটিট। ‘বম্বে ক্রানিক্যাল’ পত্রিকার আটের পাতায় ছাপা হয় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ সভাপতি জিন্নাহ ও লেডি রতির বিয়ের খবর। স্যার দিনশাহর কাছে ভূমিকম্পের সূচনা করে খবরটি। পত্রিকাটি তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবনীকারদের একজন অধ্যাপক শরিফ আল মুজাহিদ লিখেছেন, ‘জামিয়া মসজিদে নিয়ে লেডি রতিকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ’ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ধর্মকে লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষের মুসলমানদের ন্যায্য হিসসা আদায়। তাঁর কাছে প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল মানুষ, ধর্ম নয়। তিনি নিজে ধর্মাচার নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। তাঁর প্রেমিকা লেডি রতিও লালিত-পালিত হয়েছেন এমন এক ঘরে, যেখানে ধর্মের আলাদা কোনো প্রাসঙ্গিকতা ছিল না। কিন্তু কৌশলগত কারণে জিন্নাহ সিভিল ম্যারেজের বদলে ইসলামী রীতিতে লেডি রতিকে বিয়ে করেন। মিস রতি ও মিস্টার জিন্নাহকে নিয়ে লেখা তথ্যবহুল একটি বইয়ের লেখক খাজা রাজি হায়দার লিখেছেন, জিন্নাহ তখন ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যদি তিনি সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিয়ে করতেন, তাহলে সম্ভবত তাঁকে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করতে হতো। সেজন্যই জিন্নাহ ইসলামী মতে বিয়ে করেন আর রতিও এতে রাজি হন। নিকাহনামায় ১০০১ টাকা মোহরের উল্লেখ থাকলেও জিন্নাহ রতিকে উপহার দেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সে সময়ের হিসাবে তা বিশাল অঙ্কের অর্থ। ২৪ বছরের ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে জিন্নাহর বিয়ে সে সময় ভারতীয় সমাজের এক নম্বর কেচ্ছায় পরিণত হয়। আলোচিত ওই বিয়ের ঘটনা সামাজিক জীবনে ব্যাপক আলোড়নও ফেলেছিল। জিন্নাহ বিয়েতে লেডি রতিকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উপহার দিয়ে তখনকার দিনে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। সে সময় প্রতি ভরি রুপার দাম ছিল এক টাকা। সে হিসাবে ওই সময়ের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বর্তমান মূল্য ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মতো। ভারতবর্ষের সাধারণ মুসলমানরা সম্ভবত ওই বিয়েকে দেখেছিল তাদের নেতার কৃতিত্ব হিসেবে। পারসিকদের কাছে জিন্নাহ ও রতির বিয়ে ছিল অপমান ও হতাশার। তবে স্বীকার করতেই হবে, ভারতবর্ষের মুসলিম রাজনীতির দিকপাল জিন্নাহর সঙ্গে পারসিক সম্প্রদায়ের গর্বের অংশ পেটিট পরিবারের মেয়ে মিস রতির প্রেম ও বিয়ের সঙ্গে ধর্ম বা রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। অসম বয়সের প্রেম ও বিয়ের এ ঘটনার পুরোটাই ছিল মানবিক। রতি জিন্নাহকে গভীরভাবে ভালোবেসে ছিলেন। জিন্নাহর ক্ষেত্রেও সেটি একইভাবে সত্যি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লেডি রতন বাঈর বিয়ে কতটা চমক সৃষ্টি করেছিল তা উঠে এসেছে বিশিষ্টজনদের লেখায়। ভারতীয় রাজনীতির আরেক দিকপাল জওহরলাল নেহরুর বোন, বিজয়লক্ষ্মী পন্ডিত তাঁর আত্মকথা, ‘দ্য স্কোপ অব হ্যাপিনেস’ বইতে লিখেছেন, ‘পারসি সম্প্রদায়ের সেরা ধনী স্যার দিনশাহর মেয়ের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিয়ের ঘটনায় গোটা দেশ আন্দোলিত হয়েছিল। ’ বিজয়লক্ষ্মী পন্ডিতের ভাষ্য, ‘আমি আর রতি প্রায় একই বয়সী। কিন্তু আমাদের দুজনের বড় হয়ে ওঠা ভিন্ন ঘরানায়। জিন্নাহ তখনকার নামি উকিল আর উঠতি নেতা। এসব হয়তো রতির ভালো লেগেছিল। সম্ভবত সেজন্যই পারসি সম্প্রদায় আর নিজের বাবার প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও জিন্নাহকে তিনি বিয়ে করেন। ’
জিন্নাহর ঘনিষ্ঠজনদের অন্যতম সরোজিনী নাইডু। লেডি রতির ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও একজন তিনি। সরোজিনী নাইডু কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি হওয়ার কৃতিত্ব দেখান। ভারতবর্ষের স্বাধীনতাসংগ্রামীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম কাতারে। স্বাধীনতার জন্য কারাবরণও করেছেন। কোকিলকণ্ঠী নাইডু জিন্নাহকে নিয়ে একবার কবিতাও লিখেছিলেন। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস অধিবেশন চলার সময় জিন্নাহর অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দৃঢ়চেতা মনোভাবে বিমুগ্ধ হয়ে সরোজিনী নাইডু কবিতা লেখেন। ড. সৈয়দ মাহমুদকে পাঠানো একটি চিঠিতে জিন্নাহর বিয়ে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরোজিনী নাইডু লিখেন, ‘শেষ পর্যন্ত জিন্নাহ নিজের বাসনার নীল গোলাপটা তাহলে তুলেই নিল। আমার মতে মেয়েটি যে কত বড় আত্মত্যাগ করেছে, তা বোধ হয় সে কল্পনাও করতে পারছে না। কিন্তু জিন্নাহর এটা কৃতিত্ব, সে রতিকে খুবই ভালোবাসে। আত্মকেন্দ্রিক আর চাপা স্বভাবের জিন্নাহর এটা একটা মানবিক চেহারা। ’
জিন্নাহ ও সরোজিনী নাইডুর সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু কিছু গসিপ চালু থাকলেও তার বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ নাইডু ছিলেন লেডি রতির ভালো বন্ধু। তাদের বন্ধুত্বে কখনই চিড় ধরেনি।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবনীকারদের কেউ কেউ চমক সৃষ্টির জন্য তাঁর সঙ্গে সরোজিনী নাইডুর প্রেমের বিষয়ে ইনিয়েবিনিয়ে বলার চেষ্টা করলেও তাঁদের স্ববিরোধিতাও চোখে পড়ার মতো। আজিজ বেগ তাঁদেরই একজন। তিনি তাঁর বইতে লেডি রতন বাঈ ও সরোজিনী নাইডু দুজনের সঙ্গে জিন্নাহর প্রেম নিয়ে ‘টু উইনসাম উইমেন’ নামে একটি আলাদা পরিচ্ছেদের অবতারণা ঘটিয়েছেন। আজিজ বেগ একটি ফরাসি প্রবাদ উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘একজন পুরুষের জন্যই দুই নারী একে অন্যকে অপছন্দ করতে শুরু করে। কিন্তু সরোজিনীর মনে রতির প্রতি কোনো ঈর্ষা দেখা যেত না। বাস্তব এটাই যে, জিন্নাহ আর রতির বিয়েতে তিনি সাহায্যও করেছিলেন। ’ বিয়ের পর জিন্নাহ ও রতি দম্পতি মধুচন্দ্রিমা করতে মেহমুদাবাদের রাজার লখনৌ প্রাসাদে গিয়েছিলেন। খাজা রাজি হায়দারের বর্ণনায় বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, ‘মেহমুদাবাদের রাজা আমির আহমদ খায়ের বয়স তখন সাড়ে চার বছরের মতো, যখন জিন্নাহ আর রতি লখনৌতে খাঁ সাহেবের বাবার প্রাসাদে মধুচন্দ্রিমা করতে যান। রতির পরনে ছিল সাদা শাড়ি, তাতে সোনালি আর কালো রঙের পাড়। তাঁকে ঠিক পরীর মতো লাগছিল। রাজা আমির খাঁ এর চার বছর পর রতিকে দেখেন ১৯২৩ সালে, জিন্নাহ আর রতি সে সময়ে দিল্লির মেন্ডেস হোটেলে ছিলেন। খেলনা কেনার জন্য আমির খাঁকে ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন তাঁরা। ’ বয়সের পার্থক্য থাকলেও বোম্বাই, দিল্লিসহ ভারতের উচ্চ মহলে জিন্নাহ-রতি দম্পতিকে দেখা হতো ঈর্ষার চোখে। তাঁদের উচ্ছল আর খুশিতে ভরপুর চেহারা দেখেই লোকে ভাবত এদের একজনকে অন্যজনের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। লেডি রতন বাঈ ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন কাঞ্জি দ্বারকা দাস। বোম্বাইয়ের সুপরিচিত লেখকদের মধ্যে দ্বারকা দাসের স্থান ছিল সামনের তালিকায়। সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। মহাত্মা গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দুজনের বাসভবনে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। দ্বারকা দাস লেডি রতির শেষ দিনগুলোয় তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘রতির দিক থেকে চোখ ফেরানো যেত না। যতক্ষণ না আমার নজর দেওয়াটা তিনি ধরে ফেলতেন ততক্ষণ সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতাম। ’ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লেডি রতন বাঈয়ের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল দারুণভাবে। বিয়ের ১৬ মাসের মাথায় ১৯১৮ সালের ১৪-১৫ আগস্ট রাতে লন্ডনের এক হাসপাতালে রতি কন্যাসন্তানের মা হন। ১৪ আগস্ট রাতটি জিন্নাহর জীবনে বাবা হওয়ার মোক্ষম দিনই বটে। ১৯১৯ সালের ১৪ আগস্ট রাতে তিনি সন্তানের বাবা হন। আর এর ঠিক ২৮ বছর পর তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপিতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তবে ইতিহাসের এই মহানায়কের জীবনের প্রতিটি অর্জনের অনুষঙ্গ হিসেবে রয়েছে ট্র্যাজেডির অপ্রত্যাশিত ছায়া। অসামান্য মেধাবী ও প্রতিভাধর জিন্নাহ এনট্রান্স পাস করে ১৫ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে বিলেতে যান। মায়ের ইচ্ছায় সে বয়সেই এমিবাই নামে ১৪ বছর বয়সী দূর সম্পর্কীয় চাচাতো বোনের সঙ্গে জিন্নাহ বিয়েতে আবদ্ধ হন। কিন্তু তাঁর মা পুত্রের ব্যারিস্টার হওয়া দেখে যেতে পারেননি। লন্ডনে থাকা অবস্থায় জিন্নাহ একে একে মা ও স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান। বোম্বাইয়ের সেরা ধনীকন্যা এবং সেরা সুন্দরী রতন বাঈকে তিনি বিয়ে করেন চমক লাগিয়ে। বিয়ের ১৬ মাস পর তিনি কন্যাসন্তানের বাবা হন। কিন্তু জিন্নাহ তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারান ১৯২৯ সালে বিয়ের মাত্র ১০ বছর ১০ মাস পর। স্বামীর সঙ্গে লেডি রতন বাঈয়ের মানসিক দূরত্ব গড়ে উঠেছিল নানা কারণে। স্ত্রী রতির মৃত্যুর পর মেয়ে দিনাই ছিল জিন্নাহর ব্যক্তিজীবনের একমাত্র ভরসার স্থল। কিন্তু দিনাও তাঁর বাবাকে ছেড়ে যান এক পারসি যুবকের প্রেমের টানে ১৯৩৮ সালে। স্ত্রীকে হারানোর নয় বছর পর হারান একমাত্র কন্যাকে। জিন্নাহ-কন্যা প্রেমের টানে বাবাকে ছাড়লেও তাঁর দাম্পত্য জীবনও সুখের হয়নি। মাত্র পাঁচ বছর পর তাঁদের প্রেমের সংসারে ভাঙন ধরে। বাবা-মায়ের মতোই জেদি ছিলেন দিনা। প্রেমের বিয়ে ভেঙে গেলেও তিনি বাবার কাছে ফিরে যাননি। বাবার জীবিত অবস্থায় দুজনের মধ্যে কখনো মুখ দেখাদেখি হয়নি। তবে চিঠি চালাচালি হয়েছে। সে চিঠির সম্বোধনের দিকে তাকালে দেখা যাবে দিনা যেন জিন্নাহর কন্যা নন, দূরের কেউ। জিন্নাহ ছোট বোন ডেন্টাল সার্জন ফাতিমা জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে সুন্দরী। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। পাকিস্তান ছিল জিন্নাহর কাছে আপন সন্তানের মতো। এ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়েছেন। কন্যাকে হারানোর পেছনেও পাকিস্তান কানেকশন কাজ করেছে।
ভিন্নধর্মী যুবকের সঙ্গে একমাত্র মেয়ে দিনার বিয়েতে জিন্নাহ আপত্তি জানিয়েছিলেন রাজনৈতিক কারণে। উপমহাদেশের মুসলমানদের অনুভূতির কথা মনে রেখেই তিনি সে বিয়েতে বাদ সাধেন। কিন্তু জিন্নাহর পাকিস্তান নামের স্বপ্নের রাষ্ট্রটি শেষ পর্যন্ত শিব গড়তে গিয়ে বানর গড়ার ভ্রান্তিতে পরিণত হয় লোভী রাজনীতিক ও আমলাদের লালসার কারণে। জিন্নাহর নিজের জন্যও তা সুখকর ছিল না।
আমার সাফল্যের জীবন বদলে দুর্ভাগ্যের কালিমাময় অসহনীয় দুঃখ-বেদনার জীবনের জাতীয় শোকের মাস আগস্ট শেষ হতে চলেছে। আল্লাহ কীভাবে পিতাকে রেখেছেন, তাঁর পরিবার-পরিজনকে রেখেছেন তা তিনিই জানেন। মাসের শেষ প্রান্তে এসে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তাঁদের সবাইকে বেহেশতবাসী করুন, আমাদের করোনামুক্ত করুন।
আমাদের দেশের নিয়মই হলো একটা এসে আরেকটাকে চাপা দেয়। এখন মেজর সিনহাকে নিয়ে তোলপাড়। কদিন আগে সাহেদ-সাবরিনাকে নিয়ে ছিল মাতামাতি। তার আগে পাপিয়া, আরও অনেক ঘটনা। স্বাভাবিক কারণেই সেসব নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। মেজর সিনহাকে নিয়ে যে আলোচনা ও তোলপাড় চলছে তার একটা যথার্থতা আছে। একটা মানুষ এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে তা কেউ মেনে নিতে পারছে না, সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায়ও না। এখন প্রশ্ন- এ হত্যা কেন? এর কী বিচার হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ হত্যার বিচার না হয়ে উপায় নেই। কিছু কিছু ঘটনা এমন হয় যা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে না। এ ঘটনাও ঠিক তাই। সে যত ক্ষমতাধরই হোক সিনহা হত্যা হজম করতে পারবে না। তাই সিনহা হত্যার বিচার নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে বিচার চান সেখানে না হয়ে যাবে কোথায়। এখন কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটাই দেখার বিষয়। একটু সময় লাগবে। সিনহা হত্যার বিচারের জন্য কারও সাক্ষীর প্রয়োজন নেই, তা শিপ্রাই হোক আর সিফাতই হোক বা অন্য চাক্ষুষ সাক্ষী। আমি একজন আইনবিদের ছেলে। আমার বাবা প্রায় ৬০ বছর আইন-আদালত নিয়ে ছিলেন। যেদিন মারা গেছেন সেদিনও কোর্টে গিয়েছিলেন মক্কেলের পক্ষে লড়াই করতে। তাই সেই ছেলেবেলা থেকে হত্যা মামলা নিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তাতে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষী দিয়ে প্রমাণ করতে হবে না। কার অস্ত্র নিয়ে কটা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তা বিবেচ্য নয়। বিবেচ্য মেজর সিনহা হত্যা। শুনছি শিপ্রা, সিফাত চঞ্চল উচ্ছৃঙ্খল, তারা খারাপ- এসব এ হত্যায় ধর্তব্যে আসবে না। বিচার হবে মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা। তার যদি লাশ না পাওয়া যেত তাহলে একটা প্রশ্ন থাকত। তার লাশ গুম হয়নি, তাই সিনহা নিহত হয়নি তা বলা যাবে না। সিনহা নিহত হয়েছে এটাই বাস্তব। তাই সিনহা হত্যার বিচার হবে। এদিক-সেদিক করার কোনো সুযোগ নেই। হত্যা মামলার মূল কথা নিহতের লাশ। নিহতের লাশ পাওয়া গেলে হত্যা মামলার ১২ আনা সমাধান হয়ে যায়। মানে মেজর সিনহা যে নিহত হয়েছে বা মারা গেছে এটা সত্য। মেজর সিনহা মারা গেল সেটা স্বাভাবিক মৃত্যু, না অন্য কোনো উপায়ে এখন সেটা বিবেচ্য বিষয়। তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটা কানার ভাই অন্ধও বলতে পারবে। পুলিশ নিজেই বলেছে পোস্টমর্টেমে তার গায়ে ছয়টা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটা আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাই এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। এ মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? এটা স্পষ্ট হতে বাকি নেই যে, সিনহাকে প্রথমে এসআই লিয়াকত গুলি করেছে। গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে গুলি করেছে। এখন শোনা যাচ্ছে, এসআই লিয়াকত নন্দলাল বা নন্দদুলালের রিভলবার দিয়ে গুলি করেছে। রিভলবার যারই হোক এসআই লিয়াকত গুলি করে সাবেক মেজর সিনহাকে হত্যা করেছে। পুলিশ তার আত্মরক্ষার্থে গুলি করে মেজর সিনহাকে মেরেছে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ এ কাজটি করতে পারে। সত্যিই তেমন পরিবেশ হলে লিয়াকত যে মেজর সিনহাকে গুলি করে হত্যা করেছে এটা হত্যা না হয়ে পুলিশের কর্তব্য পালন হবে। তখন লিয়াকত আর অপরাধী হবে না। কিন্তু তা তো হয়নি। লিয়াকত মেজর সিনহাকে গুলি করতে কত সময় নিয়েছে তা কোনো বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য হচ্ছে লিয়াকত সিনহাকে গুলি করেছে- সেজন্য তার শাস্তি হবে। এ হত্যায় যারা সহযোগী তাদেরও বিচার হবে। লিয়াকতের যদি ফাঁসি হয়, তাদের যাবজ্জীবন না হলেও ২০ বছর তো হবে। তাই এখানে কেউ ধোয়া তুলসী পাতা নয়। যেভাবেই সাজানো হোক, মেজর সিনহার কাছে অনুমতিপ্রাপ্ত রিভলবার থাকলেও তা সে গাড়ি থেকে বের করেনি বা সে মুহূর্তে স্পর্শ করেনি। তাই এত দিনে এটা প্রমাণিত সত্য যে, মেজর সিনহা হত্যায় পুলিশের আত্মরক্ষার কোনো প্রশ্ন এখানে আসে না। মেজর সিনহা হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল। তাকে নীলডাউন করে বসানো হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে গুলি করলে সে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে পানি চাইলে তার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরা হয়। কারবালায় আমাদের প্রিয় ইমামকে পানি দেওয়া হয়নি ঠিক তেমনি। সিফাতকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে তাকে হত্যার আসামি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের বিরুদ্ধে- তার বুকের ওপর হচ্ছে গুলি। আমরা গুলি খাই দোষ আমাদের।’ এখানে তো প্রায় তেমনি। গুলি করেছে এসআই লিয়াকত, নিহত হয়েছে সাবেক মেজর সিনহা, আসামি করা হয়েছে সিফাতকে! পুলিশ সমাজের রক্ষক, আইনের রক্ষক। পুলিশ এমন বিবেকহীন কাজ করতে পারে? তাহলে দেশ চলবে কী করে। এ করোনায় পুলিশের নানা মানবিক কর্মকান্ডে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। সেই পুলিশের ভাবমূর্তি এসআই লিয়াকতরা যেভাবে ধ্বংস করছে তা মনে হয় পুলিশ বাহিনীর কেউ মেনে নেবে না। দু-চারটা প্রদীপ, নন্দলাল বা দুলাল কিংবা লিয়াকতের জন্য সারা দেশের পুলিশ নিন্দিত হবে নাকি কুলাঙ্গারদের শাস্তি নিশ্চিত করে তারা পাপমুক্ত হবে তা দেখার এখন সময় এসেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর একটা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার হবে এবং বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।
শুনেছি কক্সবাজারের সবকটি থানার পুলিশদের এমনি দুর্বার দুর্নীতি। কক্সবাজারের এসপি পর্যন্ত এর সঙ্গে জড়িত। এই সময় এদের সবার বিচার হওয়া উচিত। কেউ কেউ মনে করছেন শিপ্রা ও সিফাতের সাক্ষী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের চোখে সিফাতের সাক্ষী চলে। না হলেও বিচার ঠেকে থাকবে না। শিপ্রার সাক্ষীর তো কোনো প্রয়োজনই নেই। কারণ শিপ্রা ঘটনাস্থলে ছিল না। আগে পরে কী করেছে বা করছে সেগুলো অন্য ব্যাপার। মেজর সিনহা হত্যাই তার সাক্ষী-সাবুদের কাজ করবে। অন্য প্রসঙ্গে বলা যায়, খলনায়ক ইলিয়াস কোবরা কৌশলে তাকে দিনের বেলা আটকে রেখেছে এগুলো আনুষঙ্গিক ব্যাপার। খুনের পরিকল্পনার জন্য এগুলোর প্রয়োজন হবে এবং বিচার হবে। কিন্তু খুনি হিসেবে লিয়াকত, প্রদীপ, নন্দদুলাল আরও যারা যারা জড়িত তাদের বিচারের জন্য মেজর সিনহার লাশই যথেষ্ট। আর অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। এখন প্রশ্ন- লিয়াকতরা কি মেজর সিনহাকে তিন-চারটা গুলি করেছিল? প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর তাকে হসপিটালে নেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে নাকি পিকআপে অক্সিজেন চাইলে ওসি প্রদীপ আরও দুটি গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। কদিন আগে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের একটি লেখায় পড়েছিলাম, পুলিশ ঘেরাও করে মুর্তজা ভুট্টোকে যখন হত্যা করেছিল তখন এই একই রকম করেছিল। গুলিবিদ্ধ মুর্তজা ভুট্টোকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়ির মধ্যে গুলি করা হয়েছিল। বাংলাদেশে কোনো মুমূর্ষুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলা টিপে মারার খবর শুনিনি। যদি ধরেও নিই উত্তেজনার বশে এসআই লিয়াকত গুলি করেছিল। তারপর হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহতকে কেন গুলি করতে হবে? নিশ্চয় ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। এ কালা সরাতে না পারলে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার। সমাজকে নিরাপদ করতে পুলিশকে প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচাতে এ হত্যার বিচার হতে হবে। বিচারে কোনো পক্ষপাতিত্ব হলে চলবে না। যারা এখনো হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারা সত্যিই আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে। তারা এত অন্যায় করেছে যে, মানুষে নয়, স্বয়ং স্রষ্টা তাদের ধরেছে। আল্লাহর বিচারের হাত থেকে কী করে এ পাষ-রা মুক্তি পাবে। শুনেছি মেজর সিনহার গায়ে সামরিক পোশাক ছিল। বেসামরিক ব্যক্তির সামরিক পোশাক পরা যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার হবে। সামরিক পোশাক দেখে তো লিয়াকতের সিনহাকে সমীহ করার কথা। তা না করে তার ক্রোধ বেড়ে গিয়েছিল। মেজর সিনহা অবসরপ্রাপ্ত। সে কি পুরোপুরি সামরিক পোশাকে ছিল? হ্যাঁ, সেনাবাহিনীর লোকেরা যে কাপড় পরে সে রকম ছাপমারা কাপড় পরে থাকতে পারেন। সেটা মোটেই সামরিক পোশাক নয়। তার কাঁধে মেজরের শাপলা নিশ্চয়ই ছিল না। থাকলে বলা যেত। তাহলে সামরিক পোশাক কোথায়? সামরিক পোশাকের মতো পোশাক ছিল। ওই পোশাকের কারণে তার তো সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু সুযোগ পাননি। সেনাবাহিনীর প্রধান, পুলিশের আইজি ছুটে গিয়েছিলেন। তারা কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর বিশাল রিসোর্টে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কে না জানে এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এ বিচ্ছিন্ন ঘটনা সেনাবাহিনীর সবার ওপর এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক চাপ ফেলেছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। পুলিশ বাহিনীরও শতকরা ৯৯ ভাগ এ ঘটনায় দারুণ ক্ষুব্ধ। তারা তাদের সুনাম নষ্ট করতে চায় না। তাই কোনো ধানাইপানাই না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিনহা হত্যার বিচার হওয়া উচিত এবং এ হত্যার পেছনে যে পরিকল্পনা আছে যে উদ্দেশ্য আছে তা খুঁজে বের করা উচিত। প্রদীপের মতো দশ-বিশটা ওসি, লিয়াকত, নন্দদুলালের মতো বিশ-পঞ্চাশটা এসআইর ফাঁসি হলে কয়েক লাখ পুলিশের কিছু যায় আসে না। কিন্তু তারা একটি প্রতিষ্ঠানের যে সুনাম নষ্ট করেছে সেজন্য তাদের শাস্তি পেতেই হবে। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।
মেজর সিনহা ও সিফাত ডাকাতি করতে গিয়েছিল কিনা, এলাকায় কেউ ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেছে কিনা এসবের কোনো মূল্য নেই। শুটিং করার জন্য সিনহার লোকজনের যে কটা জিনিসপত্র ছিল সে কটা পুলিশ প্রথমে জব্দ তালিকায় দেখাল না কেন? এর কোনো জবাব নেই। এ কারণে অবশ্যই দায়িত্বশীল ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের বিচারের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। অনেকেই মনে করে পুলিশের চাকরি খুব ক্ষমতার, যা খুশি তাই করতে পারে। যদিও করার চেষ্টা করেছে তাই। গুলি চালিয়েছে লিয়াকত, আসামি করা হয়েছে সিফাতকে! এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কী হতে পারে? তাই এ বিচারের মধ্য দিয়ে আমাদের একটা সামাজিক সুস্থিতি প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। আশা করি, মেজর সিনহা হত্যার দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই সামাজিক সুস্থিতি ফিরে আসবে। সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। তারা পৃথিবীর যে দেশেই গেছে দারুণ সুনাম কুড়িয়েছে। সেই তাদের বুকের মধ্যে যে দহন, সে দহন হত্যার প্রকৃত বিচার না হওয়া পর্যন্ত কমবে না। তাই সরকারের দৃষ্টি দেওয়া উচিত এ হত্যার বিচার যেন কেউ কোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে না পারে।
লিখেছিলাম, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকারী যোদ্ধারা কি দুষ্কৃতিকারী? মোশতাক ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদী প্রতিরোধযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী ঘোষণা করে যেখানে যাকে পেয়েছে গ্রেফতার করেছে। যোদ্ধাদের না পেলে তার আত্মীয়স্বজন, বাবা-মাকে অত্যাচার করেছে, সীমান্তে বাড়িঘর, জমি-জমা বাজেয়াপ্ত করেছে। মেজর জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ক্ষমতায় এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইর সঙ্গে চুক্তি করে প্রায় ৬ হাজার প্রতিরোধযোদ্ধাকে নানা জেলে নানা ক্যাম্পে আটক করে রেখেছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এসে বিশ্বজিৎ নন্দীর ফাঁসি কার্যকর করতে চেয়েছিলেন। সারা পৃথিবীতে এ নিয়ে ঝড় উঠলে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে তার ফাঁসি কার্যকর করা থেকে এরশাদ বিরত হয়। এরপর এসেছিলেন খালেদা জিয়া। এরা সবই বঙ্গবন্ধুবিরোধী। তাই তাদের শাসনামলে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধযোদ্ধারা দুষ্কৃতকারী- এটা বলার বা শোনার একটা অর্থ থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা অন্যায়- এটা মেনে নেওয়া যায় না। হঠাৎই সেদিন ফেসবুকে এক অল্প বয়সীর একটি মন্তব্য পড়লাম। আমার প্রতি তার অভিযোগ, আমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলাম কেন? আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ইয়াহিয়া খানের ছিল, পাকিস্তানি প্রশাসনের ছিল। আমরা যদি জয়ী হতে না পারতাম, যদি বাংলাদেশ না হতো তাহলে কি সম্মানের জীবন কাটাতে পারতাম? আমরা পাকিস্তানিদের পরাজিত করে বাংলাদেশ বানিয়েছি তাই বীরউত্তম। পাকিস্তান থাকলে তো আমরা অধম। সেজন্য বলেছি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমলেও কি আমরা প্রতিরোধযোদ্ধারা দুষ্কৃতকারী?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই প্রতিরোধযোদ্ধাদের জন্য এটা-ওটা করার চেষ্টা করেছেন। যেমন হাশমী মাসুদ জামিল যুগল ও আরও কয়েকজনকে হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়ার কাছে ’৭৫-এর প্রতিরোধযোদ্ধাদের কয়েকজনকে গরুর খামার করতে বেশকিছু সরকারি টাকা দিয়েছিলেন। প্রতিরোধযোদ্ধাদের রান্নাবান্না করত এমন একজন একসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি ছিলেন। তার হাত দিয়ে নেত্রকোনা, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাটের কয়েক শ যোদ্ধাকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়ার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিছু লোক টাকা পেয়েছে। ১ লাখ করে নয়, লাখের অর্ধেক যাদের হাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা রেখে দিয়েছে। এই তো বছর দুই-আড়াই আগে নালিতাবাড়ীতে দেখেছিলাম ’৭৫-এর প্রতিরোধযোদ্ধাদের তালিকা হচ্ছে। তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। ভুয়া তালিকা তৈরি করে চার-পাঁচ শ লোকের নামে টাকা নিয়ে তাদের ৬০-৭০ হাজার করে হাতে দিয়ে লাখ টাকা লিখে নিয়েছে। এগুলো তো কোনো স্বীকৃতি নয়, এগুলো ভিক্ষে। প্রতিরোধযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে ন্যায়, না অন্যায় করেছে তা জানতে চায়। যারা খুন করেছে তাদের বিচার হলে যারা খুনিদের বিরুদ্ধে লড়েছে তারা প্রশংসা পাবে না কেন? তারা সম্মান পাবে না কেন? সবার নামে পুলিশের খাতায় ’৭৫-এর দুষ্কৃতকারী হিসেবে এখনো লেখা আছে প্রশ্নটা সেখানেই। প্রতিরোধযোদ্ধারা দুষ্কৃতকারী না জাতীয় বীর?- এ প্রশ্নের উত্তর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতি সবিনয়ে জানতে চায়।